ভূমিক্ষয় –
মৃত্তিকা বা মাটি হচ্ছে পাথরচূর্ণ, জৈব পদার্থ, নানা রকম জীব এবং অণুজীব, বাতাস এবং জলের এক জটিল মিশ্রণ। স্বাভাবিক প্রাকৃতিক উপায়ে ভৌত ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পাথরের চূর্ণীভবন ঘটিয়ে এবং জৈব পদার্থের পচনের ফলে মৃত্তিকা অনবরত সৃষ্টি হয়ে চলেছে। একই সঙ্গে এই মৃত্তিকার ক্ষয়ও ঘটছে। তাই ভূমিক্ষয় ভূমিগঠনের মতোই এক স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। সারা পৃথিবীব্যাপী ভূমিক্ষয়ের এলাকাভিত্তিক কারণগুলি হল – (ক) বৃষ্টিদ্বারা ক্ষয়, (২) মৃত্তিকা স্তর সরে যাওয়ার পরিমাণ, (গ) বায়ুর শক্তি, (ঘ) মৃত্তিকার উপরিভাগের গঠন, (ঙ) জমির কৌণিক ঢাল (চ) ঢালের দৈর্ঘ্য, (ছ) ঢালের প্রকৃতি বৈচিত্র্য, (জ) বায়ু প্রবাহের সময় কাল, (ঝ) আবাসন এলাকার জন্য ক্ষয়। এছাড়াও নির্ভর করে আবাদি জমিতে জনসংখ্যার চাপ, চাষবাসের প্রকৃতি, ফসলের আবর্তন ভূমিসংস্কার, সার ব্যবহার এবং জমিকর্ষণ ব্যবস্থার উপর। একটি হিসাব অনুযায়ী প্রতিবছর গোটা বিশ্বে ৭,৫০,০০০ লক্ষ টন উৎপাদক মৃত্তিকা ক্ষয়ে যায়। ভারতে এই ভূমিক্ষয়ের সমস্যা বেশ আশঙ্কাজনক, কেননা আমাদের দেশে এই ভূমিক্ষয়ের বার্ষিক হার প্রায় ৬০,০০০ লক্ষ টন।

0 Comments