শক্তি বা ক্ষমতার শ্রেণিবিভাজন সম্পর্কে লেখো।
উত্তর: শক্তি বা ক্ষমতার শ্রেণিবিভাজন: আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শক্তি বা ক্ষমতার শ্রেণিবিভাজন করতে গিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিখ্যাত লেখক ই. এইচ. কার তিনটি প্রধান ক্ষমতার কথা উল্লেখ করেছেন। সেগুলি হল— © সামরিক শক্তি ও অর্থনৈতিক শক্তি এবং 3 জনমত গঠনের শক্তি।
1। সামরিক শক্তি: আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি রাষ্ট্র কতটা শক্তিশালী তা প্রধানত সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে। অতীতের মতো বর্তমানেও যে রাষ্ট্র সামরিক শক্তিতে শক্তিশালী সেই রাষ্ট্রকে অতিবৃহৎ শক্তির (Super
Power) মর্যাদায় ভূষিত করা হয়। জোসেফ ফ্রাঙ্কেল তাঁর International Relations গ্রন্থে এই অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, কোনো রাষ্ট্রের কামান ও বিমানের সামর্থ্য না থাকলে নরম ধাঁচের কূটনীতিও সফল হতে পারে না।
2 | অর্থনৈতিক শক্তি: আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সামরিক শক্তির মতো অর্থনৈতিক শক্তিও একটি বিচার্য বিষয়। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞদের মতে যুদ্ধ ও শান্তি যে সময়ই হোক না কেন, অর্থনৈতিক সামর্থ্যের প্রয়োজন রয়েছে। প্রতিরক্ষাজনিত প্রস্তুতি, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, প্রযুক্তিবিদ্যা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার অগ্রগতি প্রভৃতি বিষয়ে অর্থনৈতিক শক্তি একান্ত আবশ্যক। এমনকি পররাষ্ট্রনীতির সাফল্যের জন্য অর্থনৈতিক শক্তি বা ক্ষমতার প্রয়োজন বলে অনেকে মনে করেন।
3 | জনমত গঠনের শক্তি : আধুনিককালে বিশ্বরাজনীতিতে কোনো রাষ্ট্রের পক্ষে জনমত গঠনের বিষয়টিও শক্তি বা ক্ষমতার একটি উপাদানরূপে বিবেচিত হয়। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এটা দেখা গেছে, যে রাষ্ট্রের হাতে বিশ্বজনমত গঠনের ক্ষমতা রয়েছে সেই রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অধিকতর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম।

0 Comments