সুভাষচন্দ্র বসু কেন ফরওয়ার্ড ব্লক গঠন করেন?
অথবা, ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের ত্রিপুরী অধিবেশনের (১৯৩৯) গুরুত্ব কি ছিল?
অথবা, ত্রিপুরী কংগ্রেসের (১৯৩৯) গুরুত্ব কি? অথবা, ত্রিপুরী সংকট বলতে কি বুঝ?
• উত্তর : সুভাষচন্দ্র বসু (১৮৯৭-১৯৪৫ খ্রীঃ) ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন প্রথম সারির নেতা ছিলেন। তিনি ছিলেন নির্ভীক দেশপ্রেমিক ও আপোষহীন সংগ্রামী। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনের শিষারূপে তিনি জাতীয় আন্দোলনের আঙ্গিনায় অবতীর্ণ হন। সুভাষচন্দ্রের জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক ক্ষমতার স্বীকৃতি স্বরূপ তাঁকে ১৯৩৮ খ্রীষ্টাব্দে জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি পদে মনোনীত করা হয়। কংগ্রেস সভাপতি হওয়ার কিছুকাল পর গান্ধীজীর অনুগামী কংগ্রেস নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ বৃদ্ধি পায়।
সুভাষচন্দ্র আশঙ্কা করেছিলেন যে, গান্ধীজীর নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আপোষ রফা করে ১৯৩৫ খ্রীষ্টাব্দের ভারত শাসন আইন অনুসারে ভারতে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করতে চলেছে। এই নমনীয় আপোষপন্থী দৃষ্টিভঙ্গীর বিরোধিতা করে সুভাষচন্দ্র ১৯৩৯ খ্রীষ্টাব্দে দ্বিতীয়বার কংগ্রেস সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত নেন। গান্ধীজী সমর্থিত পটভি সীতারামাইয়া সুভাষচন্দ্রের কাছে পরাজিত হলেন (জানুয়ারী ১৯৩৯)। এরপর সুভাষচন্দ্রের সঙ্গে কংগ্রেস নেতৃত্বের ব্যবধান বিস্তৃত হল। ১৯৩৯ খ্রীষ্টাব্দের মার্চ মাসে ত্রিপুরীতে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনে যুক্তপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী গোবিন্দবল্লভ পন্থ একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এতে বলা হল যে গান্ধীজীর সঙ্গে পরামর্শ করে সুভাষচন্দ্র ওয়ার্কিং কমিটি গঠন ও দলীয় কার্যকলাপ পরিচালনা করবেন। কিন্তু গান্ধীজী সুভাষচন্দ্রকে কোন প্রকার পরামর্শ দিতে রাজী হলেন না। এই অবস্থায় সুভাষচন্দ্রের পক্ষে কংগ্রেস সংগঠন পরিচালনা অসম্ভব হয়ে পড়ল। সুভাষচন্দ্র কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন (এপ্রিল, ১৯৩৯)। এরপর ১৯৩৯ খ্রীষ্টাব্দের মে মাসে তাঁর অনুগামীদের নিয়ে ‘ফরওয়ার্ড ব্লক' নামে একটি দল গঠন করলেন। সুভাষচন্দ্রের আচার-আচরণ কংগ্রেস নেতৃত্বের পক্ষে ক্রমশ অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। এর ফলে ১৯৩৯ সালের আগস্ট মাসে তাঁকে কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত করা হয়। জাতীয় কংগ্রেস এবং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে ত্রিপুরী কংগ্রেসের গুরুত্ব অপরিসীম। এর ফলেই কংগ্রেসে এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে গান্ধীজীর আধিপত্য আরও সুদৃঢ় হয় এবং এই সময় থেকেই কংগ্রেসে বামপন্থী শক্তি লক্ষণীয়ভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। তাছাড়া এর পর থেকেই সুভাষচন্দ্র বিদেশী শক্তির সাহায্যে ভারতের মুক্তি সাধনে সচেষ্ট হন।

0 Comments