কংগ্রেসের সুরাট অধিবেশনের (১৯০৭ খ্রীঃ) তাৎপর্য কি?
উত্তর : বিশ শতকের প্রথম দশকে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যে দুই ধরনের মনোভাব দেখা যায়। একটি হল নরমপন্থী নিয়মতান্ত্রিক মনোভাব, আর অন্যটি সংগ্রামী আপোষহীন প্রতিরোধমূলক দৃষ্টিভঙ্গি। এর ফলে জাতীয় কংগ্রেসের রাজনীতি দুইটি বিবদমান গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ১৯০৭ খ্রীষ্টাব্দের ডিসেম্বরে সুরাটে জাতীয় কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর বিরোধ চরমে ওঠে। প্রখ্যাত বাঙালী নেতা রাসবিহারী ঘোষ এই সম্মেলনের সভাপতি মনোনীত হন। এর বিরুদ্ধে চরমপন্থী গোষ্ঠী লোকমান্য তিলককে পাল্টা সভাপতি পদে মনোনীত করেন। তিলকের সমর্থক প্রতিনিধিগণ অধিবেশনের কার্যে বাধা দান করলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয় এবং কংগ্রেসের অধিবেশন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। চরমপন্থীরা কংগ্রেস সংগঠন ত্যাগ করেন। এইভাবে কংগ্রেসে ভাঙন দেখা দিল।
যদিও সুরাট অধিবেশন কংগ্রেসের ইতিহাসে লজ্জাজনক ঘটনা, এর ফলে কংগ্রেসের ভাবমূর্তি মলিন হয়। তথাপি এই অধিবেশন স্বাধীনতা আন্দোলনে নতুন গতি ও পথের সন্ধান দিয়েছিল। এই অর্থে এই অধিবেশনের গুরুত্ব অপরিসীম।

0 Comments