বাংলাদেশের শিল্পে অগ্রগতির বিবরণ দাও ।
উত্তর : খনিজ সম্পদের অভাবে বাংলাদেশে বৃহদায়তন ভারী ধাতব ও পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প গড়ে ওঠেনি। তবে দেশের কৃষি ও বনজ সম্পদ ও সামান্য খনিজ সম্পদের ওপর ভিত্তি করে। বাংলাদেশে পাটশিল্প, চা-শিল্প, কাগজ শিল্প, চিনি শিল্প, সূতী ও রেশম শিল্প, বস্ত্র শিল্প, বিভিন্ন রকম কুটীর শিল্প এবং সিমেন্ট শিল্প গড়ে উঠেছে।
■ [১] পাট শিল্প : পাট শিল্প হল বাংলাদেশের প্রধান শিল্প। প্রধানত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, দৌলতপুর, সিরাজগঞ্জ, চট্টগ্রাম প্রভৃতি স্থানে পাটশিল্প কারখানাগুলো অবস্থিত। নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের দামড়া-য় বাংলাদেশের বৃহত্তম পাটকলটি (আদমজী জুট মিল) অবস্থিত। বাংলাদেশের ৫৫টি পাটকলের মধ্যে বর্তমানে ২৯টি চালু আছে।
[২] চা শিল্প :চা-শিল্প হল বাংলাদেশের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শিল্প। বাংলাদেশের চা-শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রধানত সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবস্থিত।
■ [৩] কাগজ শিল্প : সুন্দরবন ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের বনজ সম্পদকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রাম ও চন্দ্রঘোনা অঞ্চলে কাগজ কল এবং খুলনাশহরের কাছে নিউজপ্রিন্টের কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে।
■ [৪] চিনি শিল্প : চিনি কলগুলো প্রধানত ঢাকা, রাজশাহী, দিনাজপুর, ময়মনসিং, বগুড়া, যশোহর, ঠাকুরগাঁও ও কুষ্টিয়ায় অবস্থিত।
■ [৫] বস্তু শিল্প কেন্দ্র : বাংলাদেশের ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট ও কুষ্টিয়ায় কাপড়ের কল আছে।
■ [৬] সার শিল্প : শক্তিসম্পদ হিসেবে প্রধানত প্রাকৃতিক গ্যাসকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের ঢাকা (ঘোড়াশাল), চট্টগ্রাম এবং সিলেট জেলায় (ফেঞ্চুগঞ্জ) সার কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে। ■ [৭] সিমেন্ট শিল্প : খনিজ সম্পদ হিসেবে চুনাপাথরকেও কাজে লাগিয়ে প্রধানত সিলেট অঞ্চলে সিমেন্ট কারখানা গড়ে উঠেছে।
■ [৮] অন্যান্য শিল্প: (১) ঢাকা ও চট্টগ্রামের ইঞ্জিনিয়ারিং ও ইস্পাত শিল্প; (২) নারায়ণগঞ্জের জাহাজ মেরামতি কারখানা; (৩) ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও খুলনা অঞ্চলের দেশলাই, সাবান ও কাঁচ তৈরীর কারখানা হল অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শিল্প।
■ [৯] কুটির শিল্প : দক্ষ ও সুলভ শ্রমিকের জন্য বাংলাদেশের কুটির শিল্প প্রাধান্য লাভ করেছে। এককালে ‘ঢাকাই মসলিন' জগদ্বিখ্যাত ছিল। মৃৎ শিল্প, তাঁত শিল্প (প্রধানত ঢাকা ও টাঙ্গাইল), স্বর্ণ ও রৌপ্য শিল্প, কাঠ, বেত ও বাঁশের শিল্প; কাঁসা ও পিতল শিল্প (প্রধানত মৈমনসিংহ জেলা) ; চিরুনী শিল্প (প্রধানত যশোর); শঙ্খ কুটির শিল্প। এর মধ্যে ঢাকাই জামদানী এবং টাঙ্গাইলের তাঁতের কাপড় খুবই বিখ্যাত।

0 Comments